আর্কাইভ
ads
logo

কয়লা কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২০ পি.এম
কয়লা কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

ads

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই মন্ত্রী জয়াকোডি এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়ঙ্গা হেমাপালা তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

সরকার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আনীত অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই জয়াকোডি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে ইতোমধ্যেই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। মূলত দেশটির একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সংবাদমাধ্যমকে জানান, সরকার কোনো তথ্য গোপন করছে না এবং সকল ক্রয়প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় সরাসরি কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, এর আগে সংসদে জয়াকোডির বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল, যা গত সপ্তাহে ভোটে খারিজ হয়ে যায়। তবে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হলেন। বর্তমান প্রশাসনের কোনো উচ্চপদস্থ মন্ত্রীর দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগের এটিই প্রথম ঘটনা।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত কয়লা আমদানির যাবতীয় নথিপত্র ও প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিস্তারিত তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, নিম্নমানের কয়লা ব্যবহারের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত লাকভিজয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটাতে বছরে গড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় গত মাসে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করতে হয়েছে এবং কয়লার বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করা শ্রীলঙ্কা এখনো জ্বালানি খাতের জন্য আমদানির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় দেশটিতে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হয়েছিল এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করার মতো পদক্ষেপও নিতে হয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে এই কয়লা কেলেঙ্কারি দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ